Social Icons

Join Our Facebook Fan Page

Wednesday, February 20, 2013

ভাষা শহীদদের স্মরণেঃ পর্ব তিন


ফেনীর গর্ব আবদুস সালাম

আবু তাহের, ফেনী

বাবার পুরোনো টিনের ঘরটি এখন নেই। সেখানে এখন ভাষাশহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাই আবদুল করিম ছোট একটি একতলা দালান নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তার পাশে বড় বোন বলকিয়তের নেছার পুরোনো মরিচাপড়া টিনের ঘরটি রয়েছে।
ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে শহীদ সালামের বাঁধানো ছবি, পাশে একুশে পদকের সম্মাননা সনদ।
ভাষাশহীদ সালামের বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের লক্ষ্মণপুর গ্রামে। সরকার গ্রামের নাম পরিবর্তন করায় বর্তমানে গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে ‘সালামনগর’। একুশে ফেব্রুয়ারির মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শহীদ সালামের রক্তমাখা শার্টসহ কিছু স্মৃতি রক্ষার চেষ্টা হলেও এখন নেই। এগুলো ছিল একটি টিনের স্যুটকেসে। সিঁধেল চোর ঘরে ঢুকে স্যুটকেসে দামি জিনিস ছিল মনে করে নিয়ে গেছে।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রামে ‘ভাষাশহীদ সালাম গ্রন্থাগার ও জাদুঘর’ স্থাপন করা হয়। ওই জাদুঘরে প্রায় পাঁচ হাজার বই রাখা হয়।
জাদুঘরের পাশেই রয়েছে ভাষাশহীদ সালাম কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গ্রন্থাগারিক খাদিজা বেগম (শহীদ সালামের ভাইয়ের মেয়ে) জানান, মাঝেমধ্যে দূর-দূরান্ত থেকে কিছু লোক শহীদ সালামের গ্রাম, বাড়ি এবং জাদুঘর দেখতে আসেন।
শহীদ সালামের বাড়ি জাদুঘর থেকে ৩০০ গজ দূরে।




কীভাবে যাবেন
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশে টিটিপাড়ায় স্টার লাইন পরিবহনের বাসে করে সরাসরি ফেনী যাওয়া যায়। অথবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বা নোয়াখালীগামী যেকোনো বাসে চড়ে ফেনীর মহিপাল বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে।
চট্টগ্রাম বা ওই দিক থেকে যেতে হলে যেকোনো বাসে ফেনীর মহিপাল বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে।
ফেনীর মহিপাল থেকে নোয়াখালীগামী যেকোনো বাসে উঠে দাগনভূঞার বেকের বাজার বা মাতুভূঞা সেতুর পাশে নেমে একটু হেঁটে যাওয়া যাবে। অথবা ফেনীর মহিপাল থেকে ট্যাক্সি নিয়ে যাওয়া যাবে।


ূত্রঃ প্রথম আলো




ভাষা শহীদদের স্মরণেঃ পর্ব দুই



গফরগাঁওয়ের ভাষাশহীদ জব্বার

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার।
তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে। শহীদ আবদুল জব্বারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে পাঁচুয়ার নাম বদলে জব্বারনগর নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৯৯৮ সালে ভাষাশহীদের পৈতৃক ভিটাসংলগ্ন স্থানে শহীদের নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৮ সালে নির্মিত হয় ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। এখন এ গ্রন্থাগারে চার হাজারের বেশি বই আছে। তবে জাদুঘরে ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের ব্যবহূত কোনো কিছু নেই। এর দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দর্শনার্থীরা আসেন জাদুঘর ও পাঠাগার দেখতে। তবে সংখ্যায় কম।’
বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। গফরগাঁওয়ে শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর শুক্র, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।



যেভাবে যাবেন

উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের ভারইল বাজার হয়ে যেতে হবে রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া বা জব্বারনগরে। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গফরগাঁওয়ের বাস আসা-যাওয়া করে। কমলাপুর থেকে সকাল-সন্ধ্যা একাধিক আন্তনগর ও মেইল ট্রেন গফরগাঁও দিয়ে যাতায়াত করে। উপজেলা সদরে থাকার জন্য রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো এবং রেস্টহাউস।

ূত্রঃ প্রথম আলো

ভাষা শহীদদের স্মরণেঃ পর্ব এক

 

পারিল এখন রফিকনগর

আবদুল মোমিন, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বলধরা ইউনিয়নের পারিল গ্রামে জন্মেছিলেন রফিক। তবে এ গ্রাম এখন রফিকনগর নামেই অনেকের কাছে চেনা। বছর চারেক আগে তাঁর নামে এ গ্রামেই ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন রফিক। মিছিলে মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
রফিকউদ্দিনের সম্মানে আজকের এই গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। এর থেকে ২০০-২৫০ গজ দূরেই ভাষাশহীদের পৈতৃক ভিটা।
২০০০ সালে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র ওই বাড়িতে একটি পাঠাগার ও বাসগৃহ নির্মাণ করে দেয়। সেখানে বাস করেন শহীদ রফিকের ভাই মৃত আবদুল খালেকের পরিবার।
গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন রফিকের ভাতিজা মো. শাহজালাল। তিনি জানান, স্মৃতি জাদুঘর ও শহীদ রফিকের বাড়িতে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক দর্শনার্থী আসেন। এ ছাড়া আশপাশের কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও তরুণেরা এখানে বই ও পত্রিকা পড়তে নিয়মিত আসেন।

 

যেভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার গাবতলী থেকে সিঙ্গাইর হয়ে হরিরামপুর উপজেলায় সরাসরি বাস আছে। সাভারের হেমায়েতপুর হয়ে সিঙ্গাইর-হরিরামপুর সড়কে এসব বাস চলাচল করে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর থেকেও বিভিন্ন ছোট গাড়ি যেমন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পোতে করে ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমদের বাড়ি এবং গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে যেতে পারবেন। গাবতলী থেকে সিঙ্গাইর-হরিরামপুর সড়কের ঋষিপাড়া বাসস্ট্যান্ডের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। সেখান থেকে রফিকনগর মাত্র তিন কিলোমিটার।

যেখানে থাকবেন
রফিকনগরে থাকার মতো কোনো আবাসিক হোটেল নেই। এর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে রয়েছে ডাকবাংলো। সেখানে ভাষাশহীদ রফিকের বসতভিটা ও তাঁর স্মৃতি জাদুঘর দেখতে আসা দর্শনার্থীরা থাকতে পারবেন। এ ছাড়া ঢাকার গাবতলী থেকে রফিকনগরে আসতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। কাজেই ঢাকা থেকে এসে জাদুঘর ও রফিকের বাড়ি ঘুরে যেতে পারেন।


ূত্রঃ প্রথম আলো

Monday, February 18, 2013

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ১০



অপরাজেয় তারুণ্য

আমার জীবনকালে আমি চারটি তাৎপর্যপূর্ণ গণজাগরণ দেখেছি। প্রথমটি বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, এরপর উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, এরপর নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও সবশেষে শাহবাগ চত্বরের আজকের গণজাগরণ। আগের প্রতিটি আন্দোলনেরই মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণেরা। তারা এসবের জন্য সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে এবং একসময় ইতিবাচক দিকে জাতীয় ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তরুণসুলভভাবেই তারা সব সময় যুক্তি বা চিন্তার ভাষাকে মানেনি। যৌবনের জন্মান্ধ প্রেরণায় সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ভয়, নিষেধ হাওয়ায় উড়িয়ে ঘূর্ণির মতো ছুটে গেছে ইপ্সিত স্বপ্নের পেছনে। আর এরই পরের এক অবিশ্বাস্য ভোরে সে স্বপ্নের কাঙ্ক্ষিত ফসল উপহার দিয়েছে জাতিকে। এ জন্য যৌবনের অন্ধ দুর্বার শক্তির ওপর চিরদিনই আমি আস্থাশীল ও তারাই আমার আজীবনের স্বপ্ন ও গন্তব্য।

অতীতে প্রতিবারই তরুণদের জেগে ওঠার পেছনে কাজ করেছে কোনো না-কোনো জাতীয় উৎকণ্ঠা। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় কাজ করেছে মাতৃভাষার নিশ্চিহ্ন হওয়ার উৎকণ্ঠা। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় স্বাধিকার হারানোর আতঙ্ক। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় গণতন্ত্র হারানোর ভয়। এবারের শাহবাগ চত্বরের আন্দোলনের সূচনাতে তাই স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন এসেছে, এবার তরুণদের মনের মূল উৎকণ্ঠাটি কী। আমার মনে হয়েছে ব্যাপারটা কিছুটা এ রকম: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা জাতির ওপর এক নারকীয় নিগ্রহের তাণ্ডব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল লাখ লাখ মানুষ। উদ্বাস্তু জীবন যাপন করতে হয়েছিল সারা দেশের প্রতিটি মানুষকে। সে অমানবিক অপরাধের বিচার জাতি পায়নি। একটি পুরো প্রজন্ম পার হলেও জাতির ভেতর সে ক্ষোভের আগুন আজও জ্বলছে। জাতির অতৃপ্ত আত্মা আজও সেই ক্ষমাহীন অপরাধের প্রতিশোধ খুঁজে বেড়ায়। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বিচারের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই আশান্বিত তরুণেরা আতঙ্কের সঙ্গে অনুভব করেছে যথার্থ বিচার জাতি হয়তো এবারও পাবে না। অতীতে বারবার ব্যর্থ হয়ে সবকিছু নিয়ে সন্দিহান আর উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠেছে তারা। প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমেছে। তারা জানে, দেশে কিছু রাজনৈতিক দল আছে, যাদের কাছ থেকে কোনো দিনই তারা এ বিচার পাবে না। তাদের আতঙ্ক জেগেছে, যারা বিচার করতে চায় তারাও পেছনের দরজা দিয়ে কোনো আপস করে ফেলল কি না। বিচার বিভাগের ওপরও যেন তারা আস্থাহীন। এই আস্থাহীনতার আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তাদের ঠেলে দিয়েছে মরিয়া প্রতিরোধের দিকে। তারা আজ অপ্রতিরোধ্য। তারা আজ যা চায় তার নাম বিচার। নিরপেক্ষ নিরঙ্কুশ বিচার। এ আজ তাদের আত্মার দাবি। অস্তিত্বের চিৎকার।

আমি কাজ করি নিভৃতে। জনসমাবেশ আমার সহজাত মঞ্চ নয়। শরীরটা ভালো নেই, কিন্তু পত্র-পত্রিকা আর টেলিভিশনের পর্দায় সে প্রতিবাদের রূপ আমি দেখেছি। আমার চোখের পাতা ভিজে উঠেছে। কেবলই মনে হয়েছে আবহমানের বাংলা এখনো জেগে আছে।
বহুদিন হলো রাজনৈতিক দস্যুতা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস আর অবিচারের মুখে সারা জাতি পিছু হটতে হটতে প্রায় গর্তের ভেতরে ঢুকে গেছে। তরুণ সম্প্রদায়ও হতাশায়, নিষ্ক্রিয়তায়, অভিমানে দেশের বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিজস্ব বিবরের মধ্যে অনেকটাই যেন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। শাহবাগের এই আন্দোলন আবার তাদের দেশপ্রেম ও দেশের বাস্তবতার সঙ্গে একাত্ম করে দিয়েছে। সেদিক থেকে এই ঘটনাকে আমাদের তরুণ প্রজন্মের ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ বলেই আমার কাছে মনে হয়।

যুদ্ধাপরাধের দাবিতে উন্মাতাল শাহবাগ কোনো জঙ্গি চত্বর নয়। সেখান থেকে কোনো সশস্ত্র বা ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনাও জন্ম নেয়নি। এটা নেহাত এক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। তবু সেই চত্বরের অন্যতম প্রতিবাদী তরুণ রাজীবকে এরই মধ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার সমবয়সী অনেকের মতো আমিও তাঁর মৃত্যুতে সন্তান হারানোর বেদনা অনুভব করেছি। সারা জাতিও তাঁর মৃত্যুতে স্তব্ধ, শোকাহত। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে দেওয়ারই শামিল। সবার সঙ্গে আমিও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তরুণ প্রজন্মকে বুদ্ধি, সতর্কতা ও মেধাবী নেতৃত্ব দিয়ে সব বৈরিতা মোকাবিলার অনুরোধ করি।

যে ন্যায়সংগত দাবি নিয়ে শাহবাগ সোচ্চার হয়েছে, আমি বিশ্বাস করি, এ দেশ তার বাস্তব রূপ অচিরেই দেখবে। কারণ, জনগণের কণ্ঠস্বর ন্যায়-নীতি, আইন, বিচার, রাজনীতি, সংসদ, সংবিধান—সবকিছুর ওপরে।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ: শিক্ষাবিদ।

সুত্রঃ প্রথম আলো

শাহবাগ, বাংলাদেশ

শাহবাগ ঢাকার নওয়াবদের বাগানবাড়ি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র, কলাভবন ও জাতিয় জাদুঘর সংলগ্ন এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ছিল এই বাগানবাড়ি। মুগল আমলে বর্তমান হাইকোর্ট ও শিশু একাডেমী এলাকায় ছিল বাগ-ই-বাদশাহি এবং বর্তমান বাংলা একাডেমী ও টি. এস. সি এলাকায় ছিল সুজাতপুর আবাসিক অঞ্চল। সুজাতপুরের উত্তরে পরবর্তী সময়ে নুরুদ্দিন হোসেন কর্তৃক স্থাপিত হয়েছিল নূর খান বাজার। বাগ-ই-বাদশাহি ও সুজাতপুরের মাঝে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠটি রমনা নামে পরিচিত ছিল। উনিশ শতকের প্রথম দিকে সুজাতপুর এলাকায় আর্মেনীয় ভূস্বামী আরাতুন এবং ব্রিটিশ বিচারক গ্রিফিন কুক দুটি বাগানবাড়ি তৈরি করেছিলেন। এই শতকের চল্লিশের দশকে নওয়াব খাজা আব্দুল গণির পিতা খাজা আলিমুল্লাহ ঐ বাগানবাড়ি দুটি কিনে নেন।


১৮৬৮ সালে নওয়াব আবদুল গণি জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ কে প্রদান করেন। আবদুল গণি অবসর কাটাতে মনের মত একটি বাগানবাড়ি তৈরি করতে মনস্থ করেন। ১৮৭০-৭১ সালে তিনি বর্তমান কলাভবন এলাকাটি নুরুদ্দিন হোসেনের ছেলের নিকট ক্রয় করেন। ১৮৭৬-০৭ সালে এর উত্তরাংশ কেনা হয়। শাহবাগে মোট জমির পরিমাণ ছিল প্রায় দুশ বিঘা। ১৮৭৩ সালে শাহবাগ বাগানবাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং তা শেষ হতে বেশ কয়েক বছর লেগে যায়। মুগলদের বিলাসবহুল বাগ-এ-বাদশাহির অনুকরণে নওয়াব আবদুল গণি এর নামকরণ করেছিলেন শাহবাগ। এর উত্তর পাশেই নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ র আমলে গড়ে ওঠে পরীবাগ বাগানবাড়ি।

বাগানবাড়িটির চারদিকে দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মাঝে বেশ কয়েকটি প্রাসাদোপম অট্টালিকা, মার্বেল পাথরে বাঁধানো বৈঠকখানা এবং অনেকগুলো বাঁধানো চত্বর ছিল। এখানে আঁকাবাঁকা সরু লেকগুলির দৈর্ঘ ছিল কয়েক কিলোমিটার। আরও ছিল অনেকগুলি বৃহদাকার প্রাকৃতিক ও বাঁধানো সরোবর। কোন কোন সরোবরের মধ্যখানে ছিল দ্বীপকারে নির্মিত গোল চত্বর ও চন্দ্রাতপ এবং সেগুলিতে যাতায়াতের জন্য ছিল সেতু। এখানে নানা রঙের বাহারি মাছসহ অনেকগুলি চৌবাচ্চা এবং নানা ধরনের ফোয়ারা ছিল। রঙবেরঙের গাছ-গাছালি এবং দেশি বিদেশি ফুল-ফলের গাছে পুরো বাগানটি ছিল সাজানো। বাগানটি সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৎকালের দুই বিখ্যাত কবি উবায়দুল্লাহ সোহরাওয়ারদী ও আবদুল গফুর নাসসাখ কবিতা রচনা করেছিলেন।

শাহবাগে ইশরাত মঞ্জিল নামে দ্বিতল ভবনটি ছিল সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয়। ১৯০৬ সালে শাহবাগে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সমিতির অধিবেশনে আগত অথিতিদের এখানে স্বাগত জানানো হয়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন এলাকায় মধুর ক্যান্টিন নামে পরিচিত ভবনটি ছিল এ বাগানবাড়ির জলসাঘর। ভবনটির মেঝে ও চতুর্দিকের প্রশস্ত অঙ্গন ছিল মার্বেল পাথরে বাঁধানো। এখানে নওয়াব পরিবারের লোকেরা স্কেটিং অনুশীলন করতেন বলে ভবনটিকে স্কেটিং প্যাভিলিয়ন ও বলা হত। এই ভবনটির দুটি গোলাকার কক্ষ আজও টিকে আছে। ১৯০৬ সালে উপরিউক্ত অধিবেশনটি এই ভবন প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শাহবাগে নিশাত মঞ্জিল নামে আরেকটি দ্বিতল ভবনে দুর্লভ বস্তুর একটি পারিবারিক জাদুঘর ছিল। বর্তমান কাঁটাবন মসজিদের দক্ষিণ পার্শে বৃত্তাকারে নির্মিত আস্তাবলটিও (বর্তমান বিলুপ্ত) শাহবাগ বাগানবাড়ির অংশ ছিল। নওয়াবদের ঘোড়া ছাড়াও ঘোড়াদৌড়ের সময় ঢাকায় আগত প্রতিযোগীদের ঘোড়াও সেখানে রাখা হত। শাহবাগের পূর্ব পাশে অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানটিও ঢাকার নওয়াবদের মালিকানায় ছিল। ঘোড়াদৌড়ের সময় আগত ইংরেজ সাহেব-মেমদের জন্য শাহবাগ বাগানবাড়িতে ভোজসভা ও বল নাচের আয়োজন করা হত। শাহবাগে নওয়াব সাহেব একটি চিড়িয়াখানাও স্থাপন করেছিলেন। ১৮৭৫ সাল থেকে প্রতি বছর খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে শাহবাগে কৃষিজ ও দেশীয় শিল্পজাত দ্রব্যের মেলা অনুষ্ঠিত হত। উক্ত মেলায় প্রদর্শিত শ্রেষ্ঠজাতের পশু-পাখি ও কৃষিজাত দ্রব্যের জন্য নওয়াবের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হতো। মেলা উপলক্ষে শাহবাগ সুন্দরভাবে সাজানো হত। নওয়াবের ব্যয়ে সেখানে নর্তক-নর্তকী, গায়ক-গায়িকারা নাচগান করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করত। যাত্রা, পুতুল নাচ, ম্যাজিক, বায়স্কোপেরও ব্যবস্থা থাকত। মেলার সময় ব্যতীত বাগানটিতে সাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল না। তবে অনুমতি নিয়ে চিড়িয়াখানা দেখার জন্য প্রবেশ করা যেত। ১৯২১ সাল থেকে নওয়াবজাদির পরীবানু ঢাকার সম্ভ্রান্ত মহিলাদের বেড়ানোর জন্য প্রতি শনিবার বাগানটি খুলে রাখার ব্যবস্থা করেন। ১৯০১ সালে নওয়াব আহসানুল্লাহর ব্যয়ে ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলেও শাহবাগে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সেখানে বিদ্যুতায়নের জন্য আগে থেকেই পৃথক জেনারেটর ছিল।
উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথমভাগ জুড়ে শাহবাগ ছিল ঢাকার উচ্চ পর্যায়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রভুমি। ঢাকার নওয়াবদের পারিবারিক অনুষ্ঠানাদি ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ঢাকায় আগমন কিংবা বিদায় উপলক্ষে এখানে ঘটা করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করা হত। ১৮৮৮ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গের ছোটলাট বেইলিকে এবং ২৬ জুলাই বড়লাট লর্ড ডাফরিনকে শাহবাগে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ১৮৯১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ১৮৯৪ সালের ২০ জুলাই বঙ্গের ছোটলাট চার্লস ইলিয়ট কে এবং ১৯০২ সালের ২১ জুলাই ছোটলাট উডবার্নকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য শাহবাগে অনুষ্ঠান করা হয়। নওয়াব সেলিমুল্লাহর উদ্যোগে ১৯০৬ সালের ১৪ ও ১৫ এপ্রিল শাহবাগে এই অঞ্চলের পাঁচ হাজার মুসলমানের এক সভায় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক মুসলমান শিক্ষা সমিতি গঠিত হয়। ঐ বছরই নওয়াব সাহেবের উদ্যোগে শাহবাগে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সমিতির অধিবেশনে ৩০ ডিসেম্বর মুসলিম লীগ এর জন্ম হয়। ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে পূর্ববঙ্গের মুসলিম প্রতিনিধিদল শাহবাগেই বড়লাট হার্ডিঞ্জ এর সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং বড়লাট তাদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন।

১৯১৫ সালে নওয়াব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র নওয়াব খাজা হাবিবুল্লাহর অব্যবস্থাপনার দরুন ঢাকার নওয়াবদের জমিদারির ন্যায় শাহবাগেরও জৌলুস কমতে থাকে। পারিবারিক কোন্দলের দরুন ক্রমে সেটা অংশীদারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায়। তবুও বিশ শতকের চল্লিশের দশকে প্রারম্ভ পর্যন্ত শাহবাগের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি হতো।


for English Version

Sunday, February 17, 2013

সুমনের গানঃ তিন

"শহীদ রাজীব"

কী বলব আজ কাকে?
কোন সান্ত্বনা দেব?
...
এত দূরে থাকি,
কী করে বলব খুনীর খবর নেব?

কী বলব বন্ধুদের?
কিসের অভয় দেব?
এত দূরে থাকি,
কী করে বলব আমি প্রতিশোধ নেব!

তবুও আমার গানে
খুনীর বিরুদ্ধতা,
শহীদ রাজীব পেলেন
মুক্তিযোদ্ধার অমরতা।

শহীদ রাজীব হায়দর
আমার সালাম নাও,
এই দুনিয়ায় শাহাদাত
বৃথা যায় না তো একটাও।


তোমার রক্তে রাঙা
বিপুল অঙ্গীকার,
যোগ্য বিচার পাবে একদিন
খুনী আর রাজাকার।

সুমনের গান শুনতে ক্লিক করুণ


Saturday, February 16, 2013

আগের দণ্ডিত রাজাকারদেরও খুঁজে বের করুনঃ প্রথম আলো


প্রথম আলোর এই লেখাটা অনেকে হয়ত পরেছেন। কিন্তু এই লেখাতার তাৎপর্য অনেক। তাই সংগ্রহের জন্য এখানে দিলাম।

আমাদের এই লেখা কেবল শাহবাগের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নিবেদন করলাম। তাঁরা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে দেশব্যাপী জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। এখন এই অদম্য তরুণদের সামনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্তত ৩০ জন যুদ্ধাপরাধীর দণ্ডের তথ্য হাজির করব। এই দণ্ডিতরা সম্ভবত কাদের মোল্লার চেয়ে কম মারাত্মক অপরাধী। কিন্তু এ দেশেরই আদালত তাঁদের দালাল-যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তি দিয়েছিলেন। সে সময় যাবজ্জীবনের মেয়াদ ছিল ২০ বছর। কিন্তু কতজন দণ্ডিত, কে কত সাজা ভোগ করেছেন, তা জানা যায় না।

 

এমনকি ফাঁসির হুকুমও কারও কারও হয়েছিল। অবাক হব না, যদি তদন্তে দেখা যায় যে কোনো ফাঁসির আসামি আজও বেঁচে থাকেন। জনতার দাবির মুখে একজন কাদের মোল্লার জন্য মন্ত্রিসভা দ্রুত আপিলের বিধান সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সংসদ আইন করতে যাচ্ছে। এই যখন রাষ্ট্রের বাস্তবতা, তখন তরুণ আন্দোলনকারীরা মুজিবের আমলে যেসব যুদ্ধাপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁদের বিষয়ে একেবারে নীরব থাকবেন, সেটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আমাদের সন্দেহ কম জোরালো নয় যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। তাঁরা আমাদের চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমাদের ধারণা, তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ থাকতে পারেন, যাঁদের শুধু আইন অনুযায়ী জেলে ভরে রাখা যাবে, নতুন করে কোনো বিচার লাগবে না। কল্পনা করতে দ্বিধা নেই যে তেমন দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে ফাঁসির আসামিও বেঁচে থাকতে পারেন। হয়তো তাঁর জন্য আপিলও লাগবে না।

তাহলে চিন্তা করুন তো, আমরা কেমন দেশে আছি, যেখানে পঁচাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে যাবজ্জীবন ও ফাঁসির হুকুম হয়েছিল, অথচ আইনের চোখে পলাতক! এখন তাঁদের ব্যাপারে একটা খবর পর্যন্ত নিতে আমাদের চেষ্টা নেই। কিন্তু যাঁর ফাঁসি হয়নি, তাঁর জন্য আমরা কফিন বানিয়ে রাখছি। ঘরে না ফেরার পণ করছি। আপিল বিভাগকে চাপ দিচ্ছি। মওদুদ আহমদদের ইঙ্গিত করার সুযোগ দিচ্ছি, ট্রাইব্যুনালের রায় কেউ মানেন না।

২০০৯ সালে এই কলামে আমরা বিষয়টির অবতারণা করেছিলাম। লিখেছিলাম, একটি মিথ ভেঙে যাক। কিন্তু বুঝলাম, আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতারা এবং তাঁদের তস্য মিত্ররা সম্ভবত বিষয়টি চেপে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন। এর মাহাত্ম্য বুঝতে আমাদের কষ্ট হয় না। কারণ, তাঁরা পারতপক্ষে এমন কিছু ছুঁয়ে দেখেন না, এমন কিছু নিয়ে মাথা ঘামান না, যা তাঁদের রাজনৈতিক মুনাফা কিংবা সস্তা বাহবা কুড়ানোর সুযোগ না দেয়। গ্ল্যামার বা চটক না থাকলে আইনের শাসনে তাঁদের ভীষণ অরুচি। শাহবাগ আন্দোলনের প্রথম ১০ দিন বিএনপির নেতাদের টক শোতে কম দেখা গেছে। এখন বিএনপিকেও দৃশ্যত অবস্থান বদলাতে হচ্ছে। এই বিষয়ে বিএনপির প্রথম বৈঠক হলো ১২ ফেব্রুয়ারি। বৈঠকে যখন বলা হলো, তারা কি মিত্র জামায়াতের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে? দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই নাকি উল্টো বলছেন, ‘আপনারা বলেন না কেন, বলেননি কেন?’ এর মানে, এখন তিনিও বাহবা নিতে রাজি।

চোখ বুজে এটা কল্পনা করতে ভালো লাগে যে প্রজন্ম চত্বরের জনতা বাহাত্তর থেকে চলে আসা বাংলাদেশের একনায়কতান্ত্রিক সংবিধানের গণতন্ত্রায়ণের দাবিতে মোমবাতি জ্বালিয়েছেন। কিন্তু আপাতত তা বাস্তব নয়। তবে এই মুহূর্তের বাস্তবতা এটাই যে তারা ফাঁসির দাবিতে উচ্চকিত। শাসক দলটির ক্ষতি এটাই যে জনতা তাদের আটকে দিয়েছে। আঁতাতের চিন্তা থাকলেও এখন তা তাদের পরিহার করতে হবে। কিন্তু সবকিছু সত্ত্বেও আওয়ামী লীগই এমন দল, যাদের কাছে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কিংবা ধর্মের অপব্যবহার রোধে বিএনপির চেয়ে ভালো কিছু আশা করতে পারি। কিন্তু এটা যেন আমরা ভুলি না যে দুই দলই আইনের শাসনে বিশ্বাসী নয়। এর প্রমাণ দিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে ফাঁকির গল্পটা বলছি।

কয়েক দিন আগে বিবিসির এক আলোচনায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিএনপির সমালোচনা করে বলছিলেন যে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বিচার বাতিল করেছিলেন এবং রাজাকারদের ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমরা তখন কান খাড়া করি। কারণ, ওই আলোচনায় শাহবাগ আন্দোলনের একজন তারকা ব্লগার এবং বিএনপির সাবেক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ ছিলেন। সেখানে বিএনপির নেতাকে ‘তুই রাজাকার’ও বলতে শুনলাম। এমনকি তিনি এটাও বললেন যে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালিয়ে যাবে।

কিন্তু দেশের মানুষ এটা বিশ্বাস করবে না যে মেজর হাফিজের কথায় বিএনপির প্রকৃত দলীয় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে। মতিয়া চৌধুরী যখন বলছিলেন যে খালেদা জিয়া ময়মনসিংহের জনসভায় নিজামীদের যুদ্ধাপরাধী বলে মনেই করেন না, তখন হাফিজ প্রতিবাদ করেননি। কিন্তু আমরা কান খাড়া করেছিলাম এ কারণে যে মেজর হাফিজের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধা মতিয়া চৌধুরীর বিচার বাতিল এবং জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে কী বলেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

তখনো দেশে সংবিধান আসেনি। এ সময় দালাল আইন পাস হয়। ১৯৭৩ সালের আইনটিকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে বাহাত্তরের দালাল আইনটিও সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদে সুরক্ষা পায়। কিন্তু দালাল আইনটি ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাতিল হয়। এটি বাতিল করেন রাষ্ট্রপতি সায়েম। জিয়াউর রহমান তখনো নেপথ্যের নায়ক। সুতরাং বিএনপির মুক্তিযোদ্ধারা বলতে পারেন যে জিয়াউর রহমান এটা বাতিল করেননি। ২০০৯ সালের ৩০ মার্চ আমরা লিখেছিলাম, প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ‘একটি বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কোনো অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁরা দণ্ড বা খালাস দেবেন। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাঁদের দণ্ড ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, তাঁদের কী হবে? এই দণ্ডিত ব্যক্তিরা কোন জাদুমন্ত্রবলে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন, তা আমাদের জানতে হবে।’
সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকা একজন আইনবিদ আমাদের নিবন্ধটি প্রকাশের পর আগ্রহ দেখালেন। আমাদের ক্লিপিং দিতে বললেন। জানালেন, তিনি এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। প্রসিকিউশন টিমের একজন সদস্যও আমাদের লেখার যৌক্তিকতা স্বীকার করলেন। কিন্তু নিট ফল শূন্য।

১৯৭৫ সালে সায়েমের করা বাতিল আইনটির মাত্র দুটি ধারা ছিল। প্রথমটি বলেছে, পিও ৮ বাতিল করা হলো। দ্বিতীয়টি বলেছে, ‘এই আইন বাতিলের আগে যাঁদের নামে যেকোনো আদালতে বা কর্তৃপক্ষের সামনে মামলার কার্যক্রমবিষয়ক যা-ই চলতে থাকুক না কেন, তা আর সামনে এগোবে না। যেখানে যে অবস্থায় যা আছে, তা মৃত্যুমুখে পতিত হবে।’

কিন্তু এই গল্পের এখানে শেষ নয়। শুরু।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে ৩৭ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। কারাগার ভরে যায়। এ অবস্থায় যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না, তাঁদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। প্রেসনোট বলেছিল, যাঁদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ইত্যাদির নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে মামলা দায়ের করা হবে। সেদিক থেকে ১৯৭৩ সালের আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ধারাবাহিকতাও আছে। ওই ঘোষণার পরে প্রায় ৩৭ হাজার লোকের মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার ছাড়া পান। কারাগারে ও পলাতক অবস্থায় থাকেন প্রায় ১১ হাজার। এই ১১ হাজারের মধ্য থেকে ৭৫২ জন আদালতে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

আমরা উল্লিখিত নিবন্ধে লিখেছিলাম, ‘এখন আমাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করতে গিয়ে এই ৭৫২ জনের বৃত্তান্ত জানতে হবে। এই উপাখ্যান আজও অপ্রকাশিত ও অনালোচিত।’ পঁচাত্তরে সায়েমের বিতর্কিত কাজগুলোর পেছনে যদি জেনারেল জিয়ার হাত থাকে, তাহলে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের জেলে রাখার সিদ্ধান্তের পেছনেও জিয়াউর রহমানের হাত ছিল বলে ধরে নিতে হবে। অন্তত বিএনপির মুক্তিযুদ্ধপন্থী অংশটি এই বিষয়ের ফায়দা নিতে পারে।

দণ্ডিতরা যাতে বের না হতে পারেন, সে জন্য বাতিল আইনে বলা হয়, ‘যারা দালাল আইনে ইতিমধ্যে দণ্ডিত হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আপিল করেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বাতিল অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে না।’
এমনকি সেখানে নির্দিষ্টভাবে ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্টের ছয় দফা দিয়ে পোক্ত রক্ষাকবচ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, দালাল আইনে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে বাতিল আইন এমনভাবে প্রযোজ্য হবে, যাতে ধরে নিতে হবে বাতিল আইন কখনো জারিই করা হয়নি। আর বাস্তবে আমরা কী দেখি? মিডিয়ায় কি এসব ছাপা হয়?

এটা একটা মস্ত বড় প্রহসন। আওয়ামী লীগ ঢালাও সমালোচনা করে। বিএনপি হজম করে। গতকাল ফোন করি মেজর হাফিজকে। কেন আপনারা হজম করেন? বললেন, ‘আমি তো জানতাম না।’ বলি, কেন বলেন না যে জিয়াউর রহমান যদি ছেড়ে দিয়ে ভুল করেন, তাহলে আওয়ামী লীগ তা শুধরে নিচ্ছে না কেন? দণ্ডিতরা কী করে জেল থেকে বেরোল, সেটা তারা তদন্ত করছে না কেন?
 
মতিয়া চৌধুরী বিবিসিকে বললেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেনি। কারণ, তখন তাদের দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা ছিল না। এটা নাকচ না করেও বলা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগের দণ্ডিতদের খুঁজে বের করতে সরকারে থাকাই যথেষ্ট ছিল।

শাহবাগের আন্দোলনকারী জনতাকে বলি, আপনারা এ ব্যাপারেও সরকারকে চাপ দিন। আইন ও সংবিধানসম্মত দাবি তুলুন। আইন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মানাসাপেক্ষ দাবিগুলো সামনে আনুন, যা নিয়ে বাড়ি ফিরেও আন্দোলন চালাতে পারবেন।
আওয়াজ তুলুন: দণ্ডিত ওই ৭৫২ জন কে কীভাবে মুক্ত বলে গণ্য হলেন? কারাগার থেকে কে কীভাবে বেরিয়ে গেলেন? ঢাকা ল রিপোর্ট ডিএলআরের পাতা উল্টান। সুপ্রিম কোর্টের মহাফেজখানায় যান, এ-সংক্রান্ত বহু রায় এবং নথিপত্রের হদিস পাবেন। আমরা প্রায় ৩০ দণ্ডিত রাজাকারের আমলানামা দেখলাম। এর কোথাও চোখে পড়েনি যে উচ্চ আদালত কাউকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন।

তাহলে তাঁরা কে কোথায় আছেন, তা খুঁজে বের করা দরকার। ১৯৭২ সালের দালাল আইনটি পুনরায় সংবিধানে প্রতিস্থাপন করেছে বর্তমান সরকার। তাহলে সেই আইনে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের জেলে ভরতে বাধা কোথায়? চলমান আন্দোলনের সঙ্গে এই দাবিও যুক্ত হতে পারে।

মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।

সুত্রঃ প্রথম আলো

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০৮

জামাত-শিবির ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে কথাটা অনেকেই বলেন। কিন্তু তার উদাহরন এতো কঠিন ভাবে আমাদের সামনে আসবে তা বুঝিনি। রাজীব (থাবা বাবা) কে টার্গেট করেই হত্যা করা হয়েছে যাতে শাহবাগ জাগরনে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করা যায়। একটা কথা পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই - ইসলামে এই ধরনের হত্যার কোন সুযোগ নেই। যতক্ষন না আক্রান্ত হয় ততক্ষন কাউকে আক্রমন করার কোন সুযোগ নেই। ...




রাজীবের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে আলোচনাটাই জামাত শিবিরের পক্ষে যাচ্ছে - কারন ধর্মের কার্ড খেলায় এই ঘাতকচক্র খুবই পারদর্শী। রাজীব যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবী করেছে - আমিও যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবী করছি - সেই বিবেচনায় রাজীব আমার সহযোদ্ধা। যদিও থাবার সাথে ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে - কিন্তু কাপুরুষের মতো অন্ধকারের জন্তুদের হাতে নিহত হওয়ার মতো নির্মমতা কখনও কারো হবে তা কল্পনাতেই ছিলো না। রাজীব হত্যা মানেই বিচারের দাবীকে স্তব্ধ করে দেওয়া। শেষ রক্তবিন্দু শরীরে থাকতে এই দাবী বন্ধ হবে না। এই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বাংলাদেশ থেকে জামাত-শিবির চক্রের নির্মূল করার মাধ্যমে। পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই - রাজীব হত্যার সাথে ধর্ম বিশ্বাসের নূন্যতম সম্পর্ক নেই - এইটা একটা কৌশল মাত্র। রাজীব চলমান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের একজন শহীদ - রাজীবকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্যের দাবী করছি। আরো দাবী করছি হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা।



বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবী করছি চিহ্নিত অগ্রগামী সকল ব্লগারের নিরাপত্তার ব্যবস্থার সাথে সাথে ঢাকার সকল শিবিরের ঘাটিগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের নিষ্ক্রিয় করা। নতুবা বৃহত আকারের একটা ঘটনার জন্যে তৈরী হওয়া ছাড়া পথ খোলা নেই। শাহবাগের আন্দোলনকারীদের সামনে হয়তো লড়াই ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকছে না।

Abu Ziauddin

থাবা বাবার ব্লগ

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০৯

যুদ্ধাপরাধী বাবার বিচার চাইলেন শরীয়তপুরের নাজমা সুলতানা। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের জাগরণ মঞ্চে আইনজীবী নাজমা সুলতানা যুদ্ধাপরাধী বাবা আনোয়ার হোসেন মাঝির বিচার চেয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার বাবা অনেক নারীকে ধর্ষণ করেছে, অনেক মানুষ খুন করেছে। এখন আমি আমার বাবার বিচার চাই। তখন বিচার চাইতে পারিনি, এখন বিচার চাওয়ার জন্য আমার পাশে আরো ভাইবোনকে পেয়েছি, সাহস পেয়েছি। রাজাকার কারো বাবা হতে পারে না। কারো আত্মীয় হতে পারে না।'

জানা যায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের অ্যাডভোকেট নাজমা সুলতানার বাবা আনোয়ার হোসেন মাঝি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। আনোয়ার হোসেন মাঝি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলেন। স্বাধীনতার সময় তাঁর সহায়তায় শরীয়তপুরের মুক্তিকামী মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট চালায়।

বিবেকের তাড়নায় বাবার পাপের বিচার চাইতে গতকাল প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে আসেন আইনজীবী নাজমা সুলতানা।
...

মুক্তিযুদ্ধের সময় নাজমা সুলতানার বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। তবে বাবা এলাকার চিহ্নিত রাজাকার হওয়ায় সে সময়কার আনোয়ার হোসেন মাঝির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি এ সম্পর্কে জেনেছেন।

রাজাকার বাবার সন্তান হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেও লজ্জা হয় বলে জাগরণ মঞ্চে জানান নাজমা সুলতানা। তিনি রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতি পরিবারে ঘাপটি মেরে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের বয়কট করারও আহ্বান জানান।

Friday, February 15, 2013

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০৭

 
উপযুক্ত তথ্যপ্রমান থাকার পরও 'মিরপুরের কসাই' কাদের মোল্লাকে ফাঁসির আদেশ না দিয়ে দেয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন দন্ড -যার বিরুদ্ধে সাথে সাথে জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে রাস্তায় নেমে আসে । সেই আন্দোলনে রায়ের বিরুদ্ধে সকল রাজাকারের ফাঁসির দাবীতে প্রতি সেকেন্ডে যুক্ত হতে থাকে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মজীবি-গৃহবধু-শিশু-বৃদ্ধ ......এবং আন্দোলন কুক্ষিগত করার অপেক্ষায় থাকা কিছু দালাল ।
বিভিন্ন সময় ইনবক্সে যোগাযোগ করে অনেকে জানতে চেয়েছেন - এই আন্দোলনের ভবিষ্যত কি ? জানি কিছু মানুষ এই আন্দোলনকে পুঁজি করতে চেয়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপে , তবুও সবাইকে বলেছি - রাজাকারের ফাঁসি চাই ,আন্দোলন চলবেই । এখনো বিজয় অর্জিত হয়নি , ফাঁসির ঘোষনা পাইনি কাদের মোল্লার - নিষিদ্ধ হয়নি জামায়াত শিবির । আজ.....আজ আরেকবার মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত শুনে নিজেকে হতাশ মনে করছি ।

যখন সারা বাংলাদেশে শিবির তান্ডব চালাচ্ছে তখন জনতা রুখে দাড়াচ্ছে কিন্তু দলীয় ছাত্রলীগকে দেখা যাচ্ছে না প্রতিরোধে - তারা শাহবাগে মাইক হাতে আন্দোলনে ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত । শিবিরের হাতে যখন জনতা খুন হচ্ছে - তখন প্রশাসনকে দেখা য...
াচ্ছে না শক্ত হাতে নির্মূল করতে । শিবিরের সাথে বিএনপি'র নেতারা যখন সঙ্গম করছে তখন প্রধানমন্ত্রী আর সংসদীয় দল আশায় আছে জামাতকে নিষিদ্ধের বিষয়ে সর্বদলীয় ঐক্যমতের অপেক্ষায় ! আর তত্থাকথিত নেতারা ? যারা নিজেরা নিজেদের মত দাবী সাজিয়ে স্পীকারের কাছে লিপি জমা দিয়ে , লক্ষ জনতাকে দিয়ে মোমবাতি জ্বালানোতেই আন্দোলনের অর্জন বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন,তিন মিনিট নীরবতা পালন করিয়ে সেটাকে অর্জন হিসেবে মহাসমাবেশে ঘোষনা দিয়ে কোনো ইঙ্গিত বা আলোচনা ছাড়াই আন্দোলনের সময়সীমা বেঁধে দেন !!
আমাদের ঠিক কোন দাবী অর্জিত হয়েছে ? কেন দিনের নির্দিষ্ট সময় আমরা শাহবাগের রাস্তা ছেড়ে দাড়াবো ? কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত ? আন্দোলন আমরা কম করিনি অফলাইনে , আমরা কি বুঝিনা একবার রাস্তা ছেড়ে দেয়ার অর্থ কি হতে পারে ?

আন্দোলনের সময় ছাত্র লীগ ছাড়াও ছাত্র ইউনিয়ন ও বাম দলের কর্মীরা ছিলেন মঞ্চে,মঞ্চের সামনের চত্ত্বরে । আপনারাও এই প্রশ্নের বাইরে নন । কারা আপনাদের 'কমিটি'কে এখতিয়ার দিয়েছে আন্দোলনের সময়সীমা বেঁধে দেয়ার ? আপনার কারা যারা জনতার আন্দোলনের সময়সীমা বেঁধে দেন ? অরাজনৈতিক আন্দোলন বলে আমরা সবাইকে আসতে আহবান জানাচ্ছি,গলা ফাটাচ্ছি সর্বত্র কিন্তু আপনাদের নেতাদের মঞ্চে দাঁড়ানোর কারনেই কি ছাত্রলীগ মঞ্চে দাড়াবার আবদারের সুযোগ পায় নি ?

সালাম নেতারা ! সালাম আপনাদের ।
Truth Is The First Casualty Of War । আমাদের এই যুদ্ধেও তার অন্যথা না করার জন্য অনেক ধন্যবাদ । অনেক স্বঘোষিত নায়ক দেখলাম । এখন শাহবাগের দালালগুলোকে দেখার অপেক্ষায় জনতা ।

জয় বাংলা ।

লিখেছেন- দূর্যোধন দূর্যোধন

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০৬

 
 
ইমরান এইচ সরকার এই ছাগলটা কে আমি জানতে চাই। সে আন্দোলনের ডাক কখন দিলো আমি জানতে চাই, সে আন্দোলনের আয়োজক কবে হলো আমি জানতে চাই। সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা সেই ছাগলকে কে দিলো আমি জানতে চাই।

সরকার আমাদের গলায় মূলা ঝুলিয়ে বেয়াল্লিশটা বছর গাধার মত রেখেছে। এই সরকারকে আমি বিশ্বাস করিনা। তারা মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের রায় দিয়েছে। যে দেশে নাই তাকে ফাঁসি, যারা আছে তাদের জেল। খুন,ধর্ষণের শাস্তি জেল?

জনতা ক্ষেপেছে, মাঠে নেমেছে, ছাত্রলীগ সেদিন সারাদেশে বিজয়মিছিল করে। তারপরদিন জনতার অবস্থা বেগতিক দেখে তারাও আন্দোলনে ভীড় জমায়! তারপর? তারপর সে এক দলীয় প্রচারনা আর ফায়দা লোটার ইতিহাস। দলীয় সহযোগীতায় তখনই আবির্ভাব ঘটে স্বঘোষিত আয়োজক ইমরান এইচ সরকার। ফলাফল? আন্দোলনে লক্ষ মানুষ যখন স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে দিন রাত শাহবাগ পড়ে থাকে তথাকথিত আয়োজকরা ঘোষনা করে বসলো আন্দোলন হবে ৩টা থেকে ১০টা! মানুষ অনুষ্ঠান করতে যায় না দেখতে যায় যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে? এটা আর বিপ্লব হলো কই? মানুষ থাকলে তোমাদের সমস্যা কই? বিএনপি প্রকাশ্যে জামাতের সাথে জোট বাঁ...
ধে, লীগ লুকিয়ে এটাইতো? এতো সহজে পার পেয়ে যাবে ভেবেছো কঠিন একটা চাল দিয়ে?

তবে সাবধান হয়ে যাও। যেখানে রিকশাওয়ালা থেকে শিল্পপতি সবাই জেগেছে সেখানে তোমাদের এই পরিকল্পনা তারা পশ্চাত দেশ দিয়ে ঢুকিয়ে দিবে। আর মুলা ঝোলানো মানিনা। আমরা বুয়েটের ভিসি সরিয়ে ঠিকভাবে ক্লাস করতে আন্দোলন করবো,, আমরা মেডিকেলে পরীক্ষা দিতে আন্দোলন করবো, আমাদের শিক্ষককে প্রহারের প্রতিবাদে আন্দোলন করবো, দলকে পাকিস্তানে না পাঠাতে আন্দোলন করবো, আর কত? এটা ফাইনাল জেনে রেখো, রাজাকারের ফাঁসির রায় আসার আগে কেউ বাড়ি ফিরবেন না। দালালদের কথায় ভ্রান্ত হবেন না।

বাংলার মানুষ জামাত শিবিরকে মাফ করেনি রাজাকারদের সহচর এজন্যে, বাংলার মানুষ আওয়ামীলীগ আর তাদের এই ফায়দা লোটা দালালদের ক্ষমা করবেনা। আমি হয়তো এই দালালদের তীক্ষ্ন চালে রাজাকারের বিচার,জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ দেখে যেতে পারবো না, তবে সন্তানকে বিদ্রোহ করতে শেখাবো। চিনিয়ে যাবো এই দালালদের, বিস্তারিত জানিয়ে যাবো ২০১৩ এর ইতিহাস। যে ইতিহাসে কোন খাদ থাকবেনা!

লিখেছেন- অনির্ণেয় অন্তরক

গুগল ম্যাপে আপনার ঠিকানা যোগ

বিশ্বের উন্নত দেশ এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের গুগল ম্যাপ দেখলেও মনের ভেতর হাহাকার খেলে যায়।
কতসুন্দর ওদের ম্যাপ! সবাই মিলে কাজ করে কত নিখুঁত ডিটেইলস দিয়েছে ম্যাপে। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি অনেক। প্রধান সমস্যা সম্ভবত বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্পিড। ভাষার মাসে চলুন দেশের জন্য কিছু করা যাক।
 
গুগল ম্যাপ কেন এডিট করব?
দেশকে ডিজিটাল বানাতে ডিজিটাল মানচিত্র প্রয়োজন। ধরুন আপনি ভ্রমণে বেড়িয়েছেন, সেসময় আপনার মুঠোফোনটি যদি বলে দিতে থাকে রাস্তার পাশে কোথায় শপিং মল রয়েছে, কোথায় পাবেন এটিএম বুথ তাহলে ভ্রমণটা কত সহজ আর আনন্দদায়ক হবে ভাবতে পারেন? এজন্য প্রথমে দরকার নিখুত একটি ডিজিটাল ম্যাপ। আর তাই আপনি অবদান রাখবেন বাংলাদেশের ডিজিটাল ম্যাপিং এ।
 
আমি নতুন, কিভাবে ম্যাপিং শুরু করব?
খুব সোজা! আপনার জন্য রয়েছে বাংলা টিউটোরিয়াল!  এই সাইট থেকে  বাংলায় টিউটোরিয়াল পড়ে ১০ মিনিটেই হয়ে যাবেন দক্ষ ম্যাপার! এরপর আপনার বাসার আশে-পাশের রাস্তার ম্যাপিং করে তাক লাগিয়ে দিন সবাইকে!
 
আমার এডিট প্রকাশিত না হয়ে পেন্ডিং হচ্ছে কেন?
প্রথম প্রথম কয়েকদিন ম্যাপারদের নজরে রাখে গুগল। তাই  এডিট প্রকাশ পেতে সময় লাগে। গোটা কয়েক এডিট প্রকাশ পেলেই আর কারো ধার ধারতে হবেনা, অটোমেটিক পাবলিশড হতে থাকবে আপনার এডিট।
আমার কিছু পেন্ডিং এডিট আছে কিভাবে অ্যাপ্রুভ করে নেব?
সুখবর হল গুগল বাংলাদেশ থেকে কয়েকজনকে মডারেটর বানিয়েছে যাদের বলা হয় রিজিওনাল এক্সপার্ট রিভিউয়ার (RER). এই RER গণ অত্যন্ত আন্তরিক এবং হেল্পফুল। তারা ফোরাম খুলে রেখেছেন সবাইকে সহায়তা এবং এডিট অ্যাপ্রুভ করে দেবার জন্য। বাংলাদেশী ম্যাপারসদের ফোরামে : "ফোরামে যোগ দিন এইখান থেকে"
 
আমি কি আমার গ্রামের ঠিকানা যোগ করে দিতে পারব ?
 
উত্তর হ্যা, অবশ্যই পারবেন আর এজন্যে আপনাকে গুগল ম্যাপ এডিট করা শিখতে হবে   যা খুবই সহজ কাজ....
চাইলে এই পোষ্টটি পরে ফেলতে পারেন
 
আর না পারলে  আপনার ঠিকানা যোগ করে দিতে আমরা প্রস্তুত, এর জন্যে আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে
এবং এই ফরমটি পুরন করতে হবে
 
* প্রতিটি ঠিকানার জন্যে আলাদা ভাবে তথ্য সাবমিট করবেন
* দয়া করে শুদ্ধ বানান এ তথ্য লেখার চেষ্টা করবেন
* আপনার ঠিকানা সম্পর্কিত একটি ছবির লিঙ্ক দেওয়ার চেষ্টা করবেন
* ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হলে  ফোন নম্বার ইমেইল ঠিকানা, ওয়েব সাইট দিতে পারেন
আপনিও অংশ গ্রহন করতে পারেন সেচ্ছাসেবী হিসেবে!
আপনাকে আমন্ত্রন রইল এই কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করে দেশের জন্যে সামান্য অবদান রাখার, যেহেতু সারা বাংলাদেশ আমাদের কার্যক্রম এর আওতায় আছে তাই আমাদের একার পক্ষে সকল ঠিকানা গুগল ম্যাপে যোগ করা একটু কষ্টকর হয়ে যাবে, তাই আপনার এলাকা থেকে যে ঠিকানা গুলোর অনুরোধ আসবে সেই ঠিকানা গুলোর দায়িত্ব আপনাদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হবে
যোগাযোগ করার জন্যে মেইল পাঠান এই ঠিকানায়ঃ  answersbd.com@gmail.com
অথবা ফেইসবুকে এই ইভেন্টে যোগদান করে প্রচারনা ও উতসাহ এবং পরামর্শ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন
 
** সেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ গ্রহন করতে চাইলে অবশ্যই পুর্বে গুগল ম্যাপ এডিট করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এই কার্যক্রম কয়েক মাস ধরে চলবে এজন্যে যারা গুগল ম্যাপ এডিট করতে জানেন না তারা সময় করে শিখে নিতে পারেন  এবং আমদের কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভবিষ্যতে অংশ গ্রহন করতে পারেন।
 

আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০৫

পূর্ব রাজাবাজারে একাটা মুদি দোকানের মালিক কাশেম চাচা, গত ৩০ বছরের দোকানি তার। কেউ কোন দিন তাকে তার দোকান ছাড়া অন্য কোথাও দেখেনি। বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই । আজ ও ভোর হতেই সবার আগে দোকান খুলে বসেছেন তিনি। কিন্তু অবাক ব্যপার হল সাত সকালেই পাশের বাসার ছোট ৯/১০ বছরের অর্চি আজ তার প্রথম খরিদ্দার। এসেই বলল নানা মোমবাতি দেও, না না একটা না এক প্যকেট। কাশেম চাচা বুঝে পান না যে এত সকালে এই মেয়ে মোমবাতি দিয়ে কি করবে? তাছাড়া গত মাসেই তো তার জন্মদিন গেল।

এত মোমবাতি দিয়ে কি করবে?
ও তুমি বুঝবেনা।

কিছুক্ষণ পরেই এলেন রাহেলা বেগম, মহিলা অঙ্গন নামে তার একটা ছোট দর্জি দোকান আছে রাজাবাজারে। সেও এসেছে মোমবাতি নিতে। চাচা ভাবলেন রাত জেগে হয়তো সেলাই এর কাজ করতে হবে, কারেন্ট চলে গেলে যেন বসে থাকতে না হয় হয়তো তার পূর্ব প্রস্তুতি।

কিন্তু তার ঘণ্টা খানেক পরে যখন অপর্ণা বউদি গেলেন মোমবাতি আনতে তখন কাশেম চাচার অবাক হবার ই কথা। সবাই কেন মোমবাতি কিনছে আজ? আজ তো হিন্দুদের দীপাবলি ও না । এবার কিন্তু সে বুদ্ধি খাটিয়ে বেশ চড়া দামেই বিক্রি করলেন। কারনটা না বুঝলেও সহজেই বুঝে ফেললেন আজ মোমবাতির ব্যপক চাহিদা আছে ।

সকাল ১০ টায় সেখানে লাঠিতে ভর দিয়ে ঠুকঠুক করে হাতড়ে হাতড়ে পৌঁছালেন জন্মান্ধ আজিজ সাহেব। মেইন রোডেই তার ৬ তলা বিল্ডিং। সবার খুব শ্রদ্ধেয় তিনি। তিনিও যখন মোমবাতি চাইলেন তখন দোকানি কাশেমের মুখ থেকে বেফাঁস কথা বেরিয়ে যায়-

আপনি তো চোখে দেখেন না, মোমবাতি জ্বালিয়ে কি করবেন?

মুহূর্তেই বুঝে গেলেন কি ভুল তিনি করেছেন। কারন ততক্ষণ এ আজিজ সাহেবের অন্ধ দু চোখে থেকে জল গড়িয়ে পরেছে।

তিনি বলতে লাগলেন অন্ধ বলে আজ তুমিও আমাকে অবহেলা করলে? আমি যে তোমাদের ই একজন। আমারোতো ইচ্ছে হয় সবার মত আজ আমিও মোমবাতি জ্বালি। আমি জানি এ শুধু মোমবাতি নয় এ আমাদের চেতনার প্রজ্জলন। আর চেতনা মানেই ৫২, চেতনা মানেই ৬৯, চেতনা মানেই ৭১। নব প্রজন্ম আজ নব চেতনার ডাক দিয়েছে। আজ বাংলার মাটিতে নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটেছে। এ চেতনার একবিংশের ,২০১৩ আজ তেমনই ইতিহাস হতে চলেছে কাশেম। আমি আমার বড় ছেলে কে হারিয়েছি ৭১ এ।
কাল যেন ও আমার সুপ্নে এসে ও বলে গেল-- আমার সোনার বাংলা আজ খাঁটি সোনা হতে চলেছে বাবা। বল কাশেম শহীদের পিতা হয়ে আমি কিভাবে চুপ থাকি? তাই তো শাহাবাগের ডাকে প্রতিটি শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ আমিও মোমবাতি জ্বালাবো সন্ধ্যা ৭ টায়।

কাশেম চাচার চোখ দুটিও ভিজে এলো, সহসাই মনে পরে গেল গ্রামের বাড়ির বন্ধু কমলেশের কথা । সেও যুদ্ধে যাবার আগে কাশেমকে বলেছিল স্বাধীনতা না নিয়ে সে আর ফিরবেনা। কিন্তু কথা রাখেনি কমলেশ, সে আর ফিরে আসেনি। স্বাধীনতা পেলেও প্রিয় বন্ধুকে ফিরে পাওয়া হয়নি তার।

এবার কিন্তু মোমবাতির বাড়তি দাম আর তিনি রাখলেন না।

প্রতিদিনের মত ভিক্ষুক রমিজের মা দোকানের সামনে দাড়াতেই তিনি ১ টাকার একটি কয়েন বের করে দিলেন। কিন্তু রমিজের মা আজ তার কয়েন না নিয়ে বরং হাতে ২ টাকার ৩ টা নোট দিয়ে বললেন-

আইজ ভিক্ষা চাইতে আহিনাই ভাইজান, সকাল থেক্কা ফার্মগেট এর মোড়ে দাঁড়াইয়া এই কডা টাহা পাইছি। ক্ষিদায় টিকবার না পাইরা ৫ টাহার অ্যাটটা রুডি কিনা খাইছি। দেহেন তো এই টাহায় মোমবাতি হইব কিনা। আমিও মোমবাতি জালামু।

কাশেম চাচার কমলেশের স্মৃতি আর চোখের জল তখনো মুছে যায়নি। তিনি এবার রমিজের মায়ের কাছ থেকে কোন টাকাই আর নিলেন না। দুটো মোমবাতি এমনিতেই দিয়ে বললেন-

এর জন্য তোমায় টাকা দিতে হবেনা । টাকা ফিরিয়ে দিয়ে তিনি রমিজের মাকে আজ আদর করে দোকানের কলা রুটি খাওয়ালেন। বললেন সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালানোর সময় সে যেন তার প্রিয় শহীদ বন্ধুটির কথা মনে করে প্রদীপ জ্বালায় -- এ জন্যই তাকে দুটি মোমবাতি দিয়েছেন।

এই ছিল আজকের মোমবাতি প্রজ্বলনের কিছু কথা...
লিখেছেনঃ পার্থ প্রতিম

সুমনের গানঃ দুই

শাহবাগে রাতভোর

শাহবাগে রাতভোর
স্মৃতিতে একাত্তর
নব ইতিহাসে সাক্ষী
রইল প্রজন্ম চত্বর।

স্লোগানে স্লোগানে কাঁপে
লাখো নবীনের বুক
ছেলেমেয়েদের মুখেই
আমার বাংলাদেশের মুখ।

হাত ধরে ছেলেমেয়ে
মুক্তির গান গেয়ে
জেগে আছি আজ প্রহরীর মতো
আসল বিচার চেয়ে।

শহীদজননী দেখছেন
জাগরণ প্রস্তুতি
সুফিয়া কামাল কাছেই আছেন
বিদ্রোহী নাতিপুতি।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

সুমনের গান শুনতে এইখানে ক্লিক করুন

সুমনের গানঃ এক

গণদাবী

বিমানে উড়তে তিরিশ মিনিট
এত কাছে তবু দূর
বিলকুল নেই পাসপোর্ট ভিসা
সীমানা চেনেনা সুর

সীমানা চিনি না আছি শাহবাগে
আমার গিটারও আছে,
বসন্ত আজ বন্ধুরা দেখো
গণদাবী হয়ে বাঁচে।

গণদাবী বাঁচো বাঁচো গণদাবী
আসল বিচার চাই,
যার যা পাওনা তাকে সেটা দাও
গণদাবী একটাই।

৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

গানটি শুনতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

Thursday, February 14, 2013

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০৪

প্রজন্ম চত্বরের জটিল খবর 


কিছু ছাগু প্রশ্ন এবং কেরামতি জবাবঃ

১. ইসসস...এভাবে যদি সাগর-রুনী হত্যা,পদ্মা ব্রিজ, শেয়ার কেলেঙ্কারী বিচার চাওয়ার জন্য সমাবেশ করা হতো।

না করছে কিডা?? প্রজন্ম চত্তর বাদেও তো আরো চত্তর আছে ওইখানে যাইয়া এগুলোর দাবীতে সমাবেশ করেন। আমরা আপাতত রাজাকারদের ফাসী নিয়ে ব্যস্ত কেননা তারা বুইড়া হয়ে গেছে মারা গেলে আর বিচার হবেনা। এই দাবী আদায় হইলে পরে যোগাযোগ কইরেন।
...

২. সব নাস্তিকদের চক্রান্ত। শাহবাগে সব নাস্তিকেরাই এই গনজাগরন পরিচালনা করছে।

তা নাস্তিকেরা নামায পড়ে এই প্রথম দেখলাম মনে হয়!! একটু কষ্ট করে ফজরের নামাযের ওয়াক্তে এখানে আইসেন। বর্তমানে শাহবাগে সবচেয়ে বড় ফজরের নামাযের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

৩. সবাই ফ্রি খাবার,পানি খাওয়ার জন্য শাহবাগে যায়। আর খাবার সাপ্লাই দেয় সরকারী দল আর নাস্তিকেরা।

এইখানে একটা কাহিনী বলি। গত পরশু রাত ১২টায় শাহবাগ থেকে বাসায় যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় পাউরুটি কেনার জন্য এলাকার পরিচিত দোকানে গেলাম। দেখলাম দোকানদার দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। আমি কইলাম ব্যাপার কি?

সে বললো সারাদিন দোকান চালায় দেখে শাহবাগ যেতে পারেনা। এখন দোকান বন্ধ করে যাচ্ছে। তার পাশে ৫টা বড় বড় কার্টন। কার্টনে করে সে বিস্কুট,পাউরুটি নিয়ে যাচ্ছে সেখানে আন্দোলন করা সবার জন্য। আশা করি বুঝতে পারতেছেন খাবার কিভাবে আসে এখানে?

৪. শাহবাগে ছেলেমেয়েরা একসাথে বেহায়ার মত নাচানাচি করে, সেখানে দলাদলি হয়।

ওই ফকিন্নির পোলা! জীবনে মা-বোন ছাড়া কয়টা মেয়ের সাথে কথা কইসস?? মেয়ে দেখলেই তো তোদের ক্যাড়া উঠে। রাস্তায় ভাই-বোন পাশাপাশি হাটলেও সেট দেখে তোদের নুনু খাড়ায় যায়। একবার এখানে আইসা দেইখা যা কি হয়। তারপর পকপক করিস। তোগর মেন্টালিটিই তো গোলকৃমির চেয়েও নিকৃষ্ট!

~কুবের

কৃতজ্ঞতা- Voice of 71 - ৭১ এর কন্ঠ

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০৩

ভালবাসা দিবস হোক সেই মেয়েটির জন্য যে বলেছিল, হ্যাঁ আমি শাহবাগের পতিতা। আমার রেট হল কাদের মোল্লার ফাঁসি। পারবি দিতে?

ভালবাসা দিবস হোক সেই রিক্সাচালকের জন্য। ছেলেটা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে যাচ্ছিল কিন্তু সম্বল বলতে পকেটে দুই টাকার ছেঁড়া একটা নোট। সেই রিক্সাচালক ছেলেটিকে বিনা ভাঁড়ায় শাহবাগ পৌঁছে দিয়েছিল এবং কাদের মোল্লার ফাঁসি চেয়েছিল।
 
 


ভালবাসা দিবস হোক সেই বাস হেলপারের জন্য যে কিনা যখন শুনেছিল ছেলেটা শাহবাগ থেকে অনেকদূর হেঁটে এসেছে কোন যানবাহন না পেয়ে। শোনার সাথে সাথে বাসের দরজা খুলে দিয়েছিল এবং শেষপর্যন্ত ছেলেটার কাছ থেকে ভাঁড়া নেয়নি।
...

ভালবাসা দিবস হোক সেই আঙ্কেলের জন্য যিনি বাসের শাহবাগের সকল যাত্রীর ভাড়া নিজের পকেট থেকে দিয়ে দিয়েছেন। এবং প্রবল উত্সাহে বলেছেন উনি প্রতিদিন অফিস শেষে শাহবাগে যান। স্লোগানে গলা মিলান। ওখানে গেলে তরুনদের ভীঁড়ে রক্ত টগবগ করে ওঠে।

ভালবাসা দিবস হোক সেই ভাইয়ের জন্য যিনি জরুরী কাজে ঢাকা এসে না খেয়ে না দেয়ে নিজেকে আন্দোলনের অংশ করে নিয়েছেন।

ভালবাসা দিবস হোক সেই আন্টির জন্য। বাসের এক লোক ইনিয়ে বিনিয়ে বলছিল, শাহবাগের রাস্তা বন্ধ থাকায় রাস্তায় জ্যাম একটু বেশি থাকে তাই বাসায় যেতে দেরি হয়। আন্টি তখন ধমকে উঠে বলেছিল, আপনার দেরি হলে আপনি বাস থেকে নেমে হেঁটে বাসায় যান। তরুনরা যা করছে তা ওদের করতে দিন।

ভালবাসা দিবস হোক সেই ফুল বিক্রেতার জন্য যে যত্ন করে বেছে বেছে সেরা ফুলগুলো দিয়েছিল নামমাত্র মূল্যে যখন শুনেছিল এই ফুলগুলো দিয়ে শাহবাগে দেশের মানচিত্র বানানো হবে।

ভালবাসা দিবস হোক দেশের জন্য। লাল সবুজের মানচিত্রের জন্য। ত্রিশ লক্ষ শহীদের জন্য। দুই লক্ষ ধর্ষিতা মা বোনের জন্য। দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধার জন্য। বাবা মাকে মিথ্যে বলে, নিষেধ কিংবা বকা অগ্রাহ্য করে আন্দোলনে অংশ নেয়া প্রতিটা তরুনের জন্য।

ভালবাসা দিবস হোক ষোল কোটি বাঙ্গালীর জন্য।

।। রাগলে মাথা ঠিক থাকে না ।।

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০২

যারা মনে করেন এটা ইসলাম বিরোধী তাদের একটা ঘটনা বলি,

মহানবী সাঃ যখন মদীনা গেলেন তখন মক্কা এবং মদীনার মাঝে একটা বিরাট যুদ্ধ হয়, সে যুদ্ধে মদীনার সবাই যুদ্ধ করে এবং মদীনা জয় লাভ করে,
অতঃপর কিছুদিন পর যখন মদীনায় মহানবী সাঃ ক্ষমতাশীল হতে শুরু করলেন, তখন বনু কুরায়জা নামের ক্ষমতাশীল আরেক গোষ্ঠী সেটা মানতে পারল না, তারা গোপনে মক্কার সাথে হাত মিলিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় যেতে চাইল এবং পরবর্তীতে মদীনার সাথে আরেক যুদ্ধে তারা মদীনার সাথে, নিজের মাতৃভূমির সাথে বেইমানি করলো,
কিন্তু সে যুদ্ধেও মদীনা জয় লাভ করল,

...
অতঃপর মহানবী সাঃ যখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন তারা কি সাজা চায়, তারা বলল"আমরা আপনাকে মানিনা, আপনার বিচার ও মানিনা"

অতঃপর জিবরাইল আল্লাহ্‌ এর তরফ থেকে আদেশ নিয়ে আসলেন যে তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকেই তাদের বিচার করা হোক,

অতঃপর তাদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত থেকে তাদের বিচার করা হল এবং মাতৃভূমির সাথে বেইমানি করার ফলে প্রতিটা বেইমান বনু কুরায়জার পুরুষকে হত্যা করা হল,

এবং এটাই ছিল দেশের সাথে নিজের কওমের সাথে বেইমানি করার একমাত্র রায়, যা সৃষ্টিকর্তা থেকে প্রদত্ত।

এখন কে নাস্তিক কে কাফের কে মুসলিম সেটা একমাত্র আল্লাহ্‌ ই বলতে পারেন, জামাতের কে কি বলল, এতে কারো কিছু যায় আসে না।

"যে বিনা বিচারে একজন মানুষ কে হত্যা করল, সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করল"

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Tuesday, February 12, 2013

"প্রজন্ম চত্বর" নিয়ে জনপ্রিয় ব্লগ সমগ্রঃ পর্ব ০১

শাহবাগ এখন বাংলাদেশের হৃদয়ঃ প্রথম আলো ব্লগ 

হাজার হাজার মানুষের মিছিলের উচ্চকণ্ঠে এখন মুখরিত শাহবাগ এই মানুষ অবিচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার১৬ কোটি বাঙালির প্রানের দাবি এইসব মানুষের মুখেতরুন প্রজন্ম, যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, ওই সময়ের আন্দোলনের উত্তাপ কিছুটা হলেও এখান থেকে বুঝতে পারবেরাজাকারদের প্রতি সীমাহীন ঘৃনা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরেস্বাধীনতার পর আমরা বিভিন্ন সময়ে রাজাকারের গাড়িতে লাল সবুজের পতাকার অবমাননা দেখেছি, আহত হয়েছিআর নয়, এদেশের মাটিতে আমরা মীরজাফর-রাজাকারদের আর দেখতে চাইনা
এই বাংলাদেশ কাদের? যারা স্বাধীন দেশ চায় নি তাদের, নাকি আমাদের? ৭১ সালে যারা পরাজিত হয়েছিল আজ তারা-ই মামলার রায়ে বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে হাসিমুখে গাড়িতে উঠছেআমার মনে হয়েছে এটা বিজয় চিহ্ন নয়, দেশপ্রেমিক প্রতিটা বাঙালির মুখে সজোরে জুতো মারাএই অপমান আমার আপনার সবারআমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নইআমরা চাই কসাই কাদেরের ফাঁসি

আজকে প্রতিটা বাংলাদেশীর সঙ্গে প্রতারনা করা হয়েছেচার শতাধিক মানুষের মৃত্যুর জন্য যদি কাউকে ফাঁসি না দেয়া হয় তাহলে কতজন মানুষ হত্যা করলে ফাঁসি দেয়া হবে সেটাও জানতে চাই আমরা
ব্রিটিশ আমল থেকে ভারতবর্ষের প্রতিটা আন্দোলনে এই বাঙালি জাতি-ই নেতৃত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের সাধারন মানুষ যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে পথে নামতে জানে সেটা মনে হয় নতুন করে কাউকে মনে করিয়ে দেবার প্রয়োজন নেইআমরা আমাদের প্রানের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, কেউ বাড়িতে এসে দিয়ে যায়নিপ্রয়োজনে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আরো রক্ত ঝরবে
রাজধানীর শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর এখন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিতপ্রত্যেকের হাতে মোমবাতিদফায় দফায় মিছিল কোথাও মশাল মিছিলকোথাও অবরোধসবার দাবি একটাইস্লোগানও একটাই -‘কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই।কাদের মোল্লার মতো একজন কুখ্যাত খুনি যদি যাবজ্জীবন পায়, তাহলে এই রায়ের অর্থ কি? আজ মঙ্গলবার বিকেল তিনটা থেকে শুরু হলেও এখনও চলছে বিক্ষোভ আর সমাবেশশাহবাগে প্রথমে অবরোধ শুরু করেন ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগন এসে জড়ো হয়েছেন এবং হচ্ছেন এখানে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে আগামীকাল বুধবার আরও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পীসহ দলে দলে নতুন আন্দোলনকারী যুক্ত হচ্ছেন আমাদের সঙ্গেআসুন, একতাবদ্ধ হই, রুখে দাঁড়াই