Social Icons

Join Our Facebook Fan Page

Wednesday, December 26, 2012

পর্যটকদের আকর্ষণ (৬ষ্ঠ পর্ব)

১ম পর্ব ২য় পর্ব ৩য় পর্ব ৪র্থ পর্ব ৫ম পর্ব


চট্টগ্রামে অবস্থিত জাতিবিদ্যা সংক্রান্ত জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে প্রায় বারোটি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর ব্যবহার সামগ্রী। এই সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানি উপজাতীয়দের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। লালবাগ কেল্লা মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর এবং ময়নামতি প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে স্ব স্ব এলাকা থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতত্ত্ব সামগ্রী। রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র জাদুঘরে রয়েছে মহেঞ্জোদারো এলাকা থেকে প্রাপ্ত দ্রব্যাদিসহ ষোড়শ থেকে উনবিংশ শতাব্দীর প্রচুর সামগ্রী যা পুরাতন হিন্দু , বৌদ্ধ ও মুসলমান ধর্মের ঐতিহ্যের স্মারকচিহ্ন । উপজাতীয় সাংস্কৃতিক সংঘ ১৯৭৮ সনে রাঙ্গামাটি শহরে স্থাপন করে পাহাড়ি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক জাদুঘর। এখানে সংরক্ষিত আছে বিভিন্ন উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভাবধারার চিহ্নসমূহ। এই সকল সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে উপজাতীয়দের পরিধেয় বস্ত্র, অলঙ্কার, মুদ্রা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ, কাঠ, তামা ও নানাবিধ ধাতুর তৈরি মূর্তিসমূহ, বাদ্যযন্ত্র, গজদন্ত সামগ্রী, হস্তশিল্প এবং উপজাতীয় জীবনধারার চিত্রকর্ম।


পর্যটন শিল্পের আরেকটি ধারা হচ্ছে উৎসব পরবাদি ও মেলা। বেশিরভাগ অনুষ্ঠান পর্বাদির উৎপত্তি হয়েছে ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে কিন্তু মেলার উৎপত্তি মানুষের হৃদয়ের আবেগ থেকে যেখানে ধর্মের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং এর পরেই রয়েছে ঈদুল আযহা। অন্যান্য মুসলিম অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঈদ ই মিলাদুন্নবি, শবে বরাত, আশুরা এবং জুমাতুল বিদা। হিন্দুদের জন্য দুর্গাপূজা , খ্রিষ্টানদের বড়দিন, বৌদ্ধদের পূর্ণিমা মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। ধর্মীয় পর্বাদী ব্যতিরেকে বাংলা নববর্ষ, বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবস এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশব্যপি পালন করা হয়। হিন্দুধর্মের অনুষ্ঠান লাঙ্গলবন্দের মেলা উদযাপিত হয় প্রতিবছর চৈত্র মাসের শেষ দিনে সোনারগাঁও সংলগ্ন লাঙ্গলবন্দ এলাকায়।


প্রাকৃতিক গোলাপি মুক্তা ঢাকার একটি বৈশিষ্ট। এগুলি দেখতে খুবই মনোমুগ্ধকর। রকমারি স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার, রুপার বিভিন্ন নেটের কারুকার্য অনেক পর্যটকের মন কেড়ে নেয়। পিতল ও তামার তৈরি ট্রে, দেওয়াল ডেকোরেশন পিস ইত্যাদিতে রয়েছে নিখুঁত জালি ও সূক্ষ্ম খোদাই কাজ যা হস্তশিল্পের ঐতিহ্য। চামড়াজাত দ্রব্যাদি, সূক্ষ্ম কাঠের কারুকার্য খচিত দ্রব্যসামগ্রী, বেত ও বাঁশের তৈরি সামগ্রী, শাঁখের চুড়ি, নকশী কাঁথা, জামদানি ও সিল্ক বস্ত্রসামগ্রিও পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।


সমগ্র দেশ জুড়ে নামি দামি হোটেল রেস্তরাঁঐতিহ্যবাহী হোটেলসমূহে পাওয়া যায় দেশী ও পাশ্চাত্য খাদ্য। দেশীয় খাবার স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। মিষ্টান্ন হিসেবে রয়েছে ডিম, দুধ, সুজি, গাজর ইত্যাদি সমন্বয়ে তৈরি মুখরোচক সামগ্রী এবং বিভিন্ন ধরণের বাদামের সংমিশ্রণে তৈরি হালুয়া। মিষ্টি দই, সন্দেশ, জর্দা ও ফিরনি অতি সুস্বাদু। রসগোল্লা ও কালজামে হচ্ছে দুধ, চিনি ও ঘি দিয়ে তৈরি জনপ্রিয় মিষ্টি। রসমালাই, নানা রকম পিঠা (যেমন চিতই, ধুপি, তক্তি, আন্দশা, ভাপা ও পোয়া পিঠা) অতিব যত্নসহকারে তৈরি করা হয়ে থাকে। ফলের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, লিচু, কলা, পেঁপে, কাঁঠাল, আনারস, নারিকেল ও কমলা। এসবকিছুই পর্যটন শিল্প বিকাশে পর্যটন শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।